
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় আধুনিক ফল ও ফুল চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় আঙ্গুর ও বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন আলীনগর ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন। বাড়ির পাশের ছোট্ট একটি জমিতে তার ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
জানা যায়, নিজস্ব উদ্যোগ, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। শুরুতে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও বর্তমানে তার বাগানে উন্নত জাতের আঙ্গুর গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে গোলাপ, গাঁদা, জারবেরা ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষও করছেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার তার বাগানের সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।
উদ্যোক্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত আঙ্গুর বাংলাদেশের মাটিতেও বাণিজ্যিকভাবে সফলভাবে চাষ করা সম্ভব। এ ধারণা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অর্থ সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিসরে চাষাবাদ সম্প্রসারণ করতে পারছেন না। সরকারি সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে আঙ্গুর ও ফুল চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
শাহাদাত হোসেনের সফলতা দেখে স্থানীয় কৃষক ও তরুণদের অনেকেই তার বাগান পরিদর্শনে আসছেন এবং কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছেন। এলাকাবাসীর মতে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ অঞ্চলে আঙ্গুর চাষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আওয়াল হোসেন বলেন, “আধুনিক ও লাভজনক কৃষিতে তরুণদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কৃষি বিভাগ নতুন উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।”
কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা