
জবির ছোট ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ, ব্যাহত হচ্ছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ
শেখ মোহাম্মদ পারভেজ (ঢাকা)
মাত্র সাত একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। উপাচার্যের (ভিসি) ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা ও চলাচলের পথের আশপাশে নিয়মিত ময়লার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ময়লার স্তূপ পড়ে রয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা জমে থাকলেও অনেক জায়গায় তা খোলা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে ক্যাম্পাসের ব্যস্ত এলাকাগুলোতেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।
আয়তনে ছোট হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিয়মিত চলাচল রয়েছে। অল্প জায়গার মধ্যে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় বিষয়টি সহজেই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও চলাচলের পথের পাশে ময়লার স্তূপ থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
নবীন শিক্ষার্থী মৃদুল বলেন, “আমাদের এমনিতেই ছোট ক্যাম্পাস। এর মধ্যে নানা সংকটে ভুগতে হচ্ছে। তার ওপর বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ জমে থাকায় ক্যাম্পাসের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন এসব বিষয়ে একেবারেই উদ্যোগ নেয় না। ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের বিষয়গুলো প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
এ বিষয়ে জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ময়লার স্তূপগুলো পরিষ্কার করার কথা ছিল। এসব বর্জ্য অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাদেরই এগুলো সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল। তবে একবারে সব বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব না হওয়ায় কিছু ময়লা এখনো পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, “উপাচার্য ভবনের পাশে থাকা কিছু সামগ্রী মেরামতের জন্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ক্যাম্পাসে ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে বিভিন্ন স্থানে ময়লা ও নির্মাণসামগ্রী জমেছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝির মধ্যেই এসব ময়লা ও সামগ্রী সরিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “ভিসি ভবনের বাম পাশের বিষয়টি জানা নেই। দেখে ঠিক বলতে হবে। অফিস টাইমে বললে আমরা লোক পাঠিয়ে দেখতে পারতাম। কাল বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সায়েন্স ফ্যাকাল্টির দিকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের গেটের ডান পাশে একটি ময়লার স্তূপ আছে, সেটি আমি নিজে দেখেছি। নির্মাণকাজ শেষ হলে তারা এটি সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে। কিছুটা কাজ বাকি আছে। কাজ শেষ হলে তারা একবারে নিয়ে যাবে।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধু ময়লা অপসারণ করলেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণ, নিয়মিত ময়লা অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
মাত্র সাত একরের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ সেই পরিবেশকে ব্যাহত করছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।