
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে আহত
রিপোটার: শেখ মোহাম্মদ পারভেজ (পাবনা)
পাবনার, সাঁথিয়ায় সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা নাজিবুর রহমান মোমেন জুমার নামাজে জোর পূর্বক ইমামতি করার চেষ্টা ও ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যার ফলে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত পৌনে ৯ টার দিকে সাঁথিয়া পৌর এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর জামে মসজিদে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জুমার নামাজে মসজিদের নির্ধারিত ইমামকে নামাজ পড়াতে না দিয়ে নিজে ইমামতি করার উদ্যোগ নিলে বিএনপি সমর্থকেরা তাতে আপত্তি জানায়। এ নিয়ে মসজিদের মধ্যে হট্টগোল ও উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। জামায়াতের কর্মীরা রাহাত নামে এক ছাত্রদল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কর্মসূচি চলছিলো।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছেন এবং পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।এর প্রতিবাদে বিকেলে সাঁথিয়া পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পরে সন্ধ্যায় পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয় বিএনপি।
রাত পৌনে ৯ টার দিকে পৌর বিএনপির কার্যালয় থেকে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেয়া হলে পাশের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয় জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক। এ অবস্থার মধ্যে বিএনপির মিছিল বের হলে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় পুলিশের অনুরোধে বিএনপির নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত মিছিল করে । পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করেছিলেন এবং হামলার প্রস্তূতি নিচ্ছিলেন।