
বাঙালি জাতির ইতিহাসে আজ এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল বিশ্বের অভিজাত 'পারমাণবিক ক্লাবে'। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছর হতে চললেও, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের ভিত্তি যে কতটা শক্তিশালী ছিল, আজকের এই অর্জন তারই জীবন্ত প্রমাণ।
২০১০ সালে প্রকল্প গ্রহণের পর থেকে দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। রাশিয়ার সাথে ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করেছিলেন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা। যেখানে তুরস্কের মতো দেশ বিশাল বাজেটেও হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে শেখ হাসিনা রাশিয়ার বাইরে বিশ্বের সর্বাধুনিক 'জেনারেশন থ্রি প্লাস' প্রযুক্তির ভিভিইআর ১২০০ রিয়েক্টর স্থাপন করে আর্থিক স্বচ্ছতা ও কারিগরি সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক সংকটে যখন দেশের সার্বভৌমত্ব ও জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তখন রূপপুরের এই সাফল্য আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার হিমালয়সম ইচ্ছাশক্তি না থাকলে পদ্মা সেতু বা রূপপুরের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন অসম্ভব ছিল। ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে—নেতৃত্বের দৃঢ়তা থাকলে একটি ভূখণ্ডকে বিশ্বমঞ্চে কতটা উঁচুতে নেওয়া যায়।
রূপপুর কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এক অবিনাশী প্রতিচ্ছবি। শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া এই উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বের জয়তিলক ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অম্লান থাকবে।
#স্বাধীন_দেশ