এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার ২ নম্বর সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অধ্যাপক আলহাজ্ব মোঃ মফিদুল ইসলাম। তিনি সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সোনারায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ডাবল এমএ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানকে সামনে রেখে তিনি আবারও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী।
মফিদুল ইসলামের সমর্থকদের প্রত্যাশা, বিএনপি তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবেন। তাঁদের মতে, অতীতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও যোগাযোগ রয়েছে। এ অভিজ্ঞতা তাঁকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পারে বলে মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর সম্ভাবনা নির্ভর করবে দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচনী পরিবেশ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন মফিদুল ইসলাম। তাঁর সমর্থকদের দাবি, ওই নির্বাচনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর অনুসারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে তিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ডাকে সাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে সমর্থকেরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাঁদের অভিযোগ ও সমস্যা বিবেচনায় নেওয়া এবং সমাধানের চেষ্টা করা ছিল তাঁর কার্যক্রমের অন্যতম দিক। তাঁদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির সাফল্য কেবল রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও রয়েছে অধ্যাপক আলহাজ্ব মোঃ মফিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা। তিনি বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ আহমেদ কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তসলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজ এবং করিমপাড়া বিএম দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর এই সম্পৃক্ততাকে সমর্থকেরা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁদের মতে, রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখা তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততার পরিচয় বহন করে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোনারায় ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে আলোচনা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক আলহাজ্ব মোঃ মফিদুল ইসলামের অভিজ্ঞতা, দলীয় সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ভূমিকা স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পদে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রার্থিতা মনোনয়নপ্রত্যাশার পর্যায়েই রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ২ নম্বর সোনারায় ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলহাজ্ব মোঃ মফিদুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর সমর্থকদের। এখন দেখার বিষয়, দলীয় মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তিনি কতটা এগিয়ে থাকেন এবং নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের সমর্থন কতটা অর্জন করতে সক্ষম হন।