আসন্ন রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: জনসম্পৃক্ততা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীম
বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার ৩নং রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে নির্বাচনী আবহ তৈরি হচ্ছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি মোঃ সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীম। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পরিচিতি অর্জন করেছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তার গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও ওয়ার্ডে নিয়মিত উপস্থিত থেকে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, যুবসমাজ এবং প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। ফলে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মোঃ সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীম ৩নং রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী জাগুলী ঈদগাহ মাঠের সভাপতি এবং ইছামতি সামাজিক সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শিক্ষা সহায়তা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীমের রাজনৈতিক যাত্রার পেছনে রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য। তিনি গাবতলী থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি মাস্টার আমিনুর রহমান তালুকদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে ওঠে বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান।
তারা বলেন, পারিবারিক আদর্শকে ধারণ করেই তিনি জনসেবাকে নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, মতবিনিময় এবং গণসংযোগ করছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্যাশা ও পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে সেসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। এ কারণে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তাকে নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ব্যক্তিগতভাবে বিনয়ী, সহজ-সরল ও সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কারণে সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীম ইতোমধ্যেই অনেকের আস্থা অর্জন করেছেন। সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষ তাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন বলে তারা মন্তব্য করেন।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীম বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের সেবা করার একটি দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে আমি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং সমর্থন নিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “জনগণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে রামেশ্বরপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ইউনিয়নে রূপান্তর করতে কাজ করব। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ এবং সামাজিক অপরাধমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গঠনে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। যুবসমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।”
উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং দরিদ্র মানুষের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি জনপ্রতিনিধি মানে জনগণের সেবক। মানুষের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই। ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের মতামতকে মূল্যায়ন করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।” নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেসব সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়মিত জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তাদের মধ্যে সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীম অন্যতম। সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের তুলনায় পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এদিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা উন্নয়নমুখী, সৎ, কর্মঠ এবং জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার কারণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীমের অবস্থান ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মোঃ সামছুজ্জোহা তালুকদার শামীমের নাম এখন রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত। আগামী দিনে নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার হলে ইউনিয়নের ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও প্রাণবন্ত হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।