• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নন্দীগ্রাম সদর ইউপি নির্বাচনে চার প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ধামইরহাটে ইসবপুর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ঘোষণা-সমর্থন পেলেন এস এম জাহাঙ্গীর আলম চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানিক- কথিত সাংবাদিক এসএম রুবেরসহ গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ধামইরহাটে প্রশাসনকে ব্যবহার করে দলীয়করণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন ভোলাহাটে আমের ফেলে দেওয়া খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু ‘ম্যাংগো পিল টি’, তিন বন্ধুর তাক লাগানো উদ্ভাবন সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে তুরস্কে বিক্ষোভ মুগদায় তরুণীর নামে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের আগে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরানো হলো আশরাফুলকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নবীনবরণ ও একাডেমিক ফেস্ট’২৬ অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক জব্দ

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক ও প্রতারণার অভিযোগ মো. বাহারুল কালাম রুবেলের বিরুদ্ধে

Reporter Name / ২১৬ Time View
Update : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক ও প্রতারণার অভিযোগ মো. বাহারুল কালাম রুবেলের বিরুদ্ধে

 

এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া:

বগুড়ার কাহালু উপজেলার ৯নং মালঞ্চা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভালশুন পূর্বপাড়া গ্রামের স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক মো. বাহারুল কালাম রুবেলের বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আফসানা খাতুন ও তার পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত আনসার আলীর ছেলে মো. বাহারুল কালাম রুবেলের সঙ্গে একই এলাকার জহুরুল ইসলামের মেয়ে আফসানা খাতুনের প্রায় তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ভুক্তভোগীর দাবি, এই সময়ে মো. বাহারুল কালাম রুবেল তাকে একাধিকবার বিয়ের আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে আফসানার অন্যত্র বিয়ে হলেও মো. বাহারুল কালাম রুবেল তার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে স্বামীর সংসার থেকে ফিরিয়ে আনেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পরে বিয়ের দাবি জানালে মো. বাহারুল কালাম রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে অপমান-অপদস্থ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বর্তমানে আফসানা খাতুন বাবার বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে পরিবার জানায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মো. বাহারুল কালাম রুবেল ও আফসানার সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত সেখানে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রাম্য মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ২৬ জুন ২০২৬ (শুক্রবার) গ্রামের মুরব্বিরা প্রথম দফায় একটি সালিশের আয়োজন করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সালিশে মো. বাহারুল কালাম রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে ৩ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) দ্বিতীয় দফায় আবারও গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানেও অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মো. বাহারুল কালাম রুবেল বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এতে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মো. বাহারুল কালাম রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিকবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, চলমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. বাহারুল কালাম রুবেল তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পুনরায় সংসারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী আফসানা খাতুন বলেন, “সে যদি আমাকে বিয়েই না করত, তাহলে কেন আমাকে বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে আমার স্বামীর সংসার ভাঙল? কেন আমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলল? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার মতো আর কোনো মেয়ের জীবন যেন এভাবে নষ্ট না হয়।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসেনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এ বিষয়ে আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসেন বলেন, “বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি কেউ এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category