মোঃ রনি রজব ভোলাহাট উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি:
একসময় দুর্গম বা প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষাগ্রহণ ছিল একটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ; ভালো শিক্ষকের অভাব, সময়মতো বই-পুস্তক বা মানসম্মত নোট না পাওয়া এবং জটিল কোনো বিষয় বোঝার জন্য শহরের কোচিং কিংবা দূর-দূরান্তে যাতায়াতের কষ্ট ছিল তাদের নিত্যদিনের চিত্র। কিন্তু বর্তমান সময়ে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ (আইসিটি)-র অভূতপূর্ব অগ্রগতি সেই চিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে; প্রযুক্তির কল্যাণে আজকের গ্রাম ও শহরের শিক্ষার ব্যবধান দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং অত্যন্ত স্বল্প খরচে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও পাচ্ছে মানসম্মত শিক্ষার নতুন সুযোগ। মূলত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে এখন যেকোনো কঠিন বা জটিল বিষয় চোখের পলকে সহজ হয়ে উঠছে, যেখানে স্মার্টফোন ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেটের মাধ্যমে গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজির মতো বিষয়গুলোর সমাধান সম্ভব হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা ইউটিউব, বিভিন্ন শিক্ষা অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটের 3D অ্যানিমেশন ও ভিডিও দেখে কঠিন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও গাণিতিক সমস্যা খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারছে। তাছাড়া অনেক স্বনামধন্য শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে বিনামূল্যে বা খুব কম খরচে তাদের ক্লাস ও নোট উন্মুক্ত করে দেওয়ায় একজন গ্রামীণ শিক্ষার্থী কোনো বিশাল আর্থিক চাপ ছাড়াই শীর্ষস্থানীয় শিক্ষকদের পরামর্শ পাচ্ছে। দুর্গম অঞ্চলে আইসিটির এই বহুমুখী সুবিধার ফলে দূরত্বের বাধা দূর হচ্ছে—যেখানে ক্লাসে সরাসরি উপস্থিত না হতে পারলেও রেকর্ড করা ভিডিও বা লাইভ ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সময়মতো যেকোনো জায়গা থেকে শিখতে পারছে, দেশের বা বিশ্বের যেকোনো ডিজিটাল লাইব্রেরি, ই-বুক ও ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আধুনিক তথ্য ও গবেষণায় প্রবেশাধিকার পাচ্ছে এবং কোনো পাঠ প্রথমবারে বুঝতে না পারলে ভিডিওটি বারবার টেনে দেখে নিখুঁতভাবে বুঝে নেওয়ার মাধ্যমে নিজের গতিতে শেখার স্বাধীনতা (Self-paced Learning) উপভোগ করছে। প্রযুক্তির এই বিপ্লব গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তুলছে, তবে এর সঠিক ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি; একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি—প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের যদি সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া যায়, তবে আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই মেধাবীরাই ভবিষ্যতে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠবে, কারণ প্রযুক্তি কেবল শিক্ষার মাধ্যমকে সহজ করেনি, বরং প্রতিটি শিক্ষার্থীর সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ উন্মোচন করেছে।