বিশেষ প্রতিনিধি, শেখ মোহাম্মদ পারভেজ
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহতের ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। দুর্ঘটনায় পতিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ফিটনেসবিহীন বাসটি কীভাবে সড়কে চলাচল করছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নাটোর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ চলতি বছরের ১৩ মে শেষ হয়েছে। তবে বাসটির রুট পারমিটের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার তাছফিয়া খাতুন (৮) এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সোহাগ হোসেন (৩০), জুয়েল রানা (৪০), শালাল মোল্লা (৪৫), শাহিন হোসেন (২৫), সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫) ও জহুর উদ্দিন। এ ছাড়া বাসটির চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সোহেল রানা (৪০) নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল সরকারপাড়ায় যান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। পুলিশ সুপার ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাটোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর সকালে আহত নয়জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাকি সাতজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ এবং ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও বাসটির চলাচলের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
I’ve been trying a few sites lately and this one really stands out. The payouts are fast and the interface is super smooth. Definitely check out sin888bet if you want a reliable spot.