“পুশ-ইন ইস্যুতে উত্তেজনা নয়, সমাধান হোক আলোচনার টেবিলে”:শামিউল বাশার শ্যামল ছাত্রনেতা!
নিজস্ব প্রতিবেদন,
ছাত্রনেতা মু: শামিউল বাশার শ্যামল আমাদের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান,
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে ব্যাপক আলোচনা, উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শত শত মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, ভারতে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করে আসছেন। তারা অনেকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং বসবাস সহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তারা এসব অবৈধ অভিবাসীকে শনাক্ত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছি।
ছাত্রনেতা আরো জানান, বেশ কিছু সীমান্ত অঞ্চলে পুশ-ইনের শিকার হওয়া মানুষ গুলো বিজিবি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের অনেককেই বলতে দেখা যায় তারা বাংলাদেশি একাক জনের একাক জেলায় বাড়ী। তারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে কাজের খোঁজে চলে গিয়ে বসবাস করতেন। অনেকেই আবার আইনি সহায়তার আশায় স্বেচ্ছায় ভারতীয় পুলিশের কাছে স্যারেন্ডার করেছেন, আইনি প্রক্রিয়ায়র মাধ্যমে নিজ দেশে বৈধভাবে ফেরত আসার জন্য। কিন্তু তাদের কেও পুশ-ইনের শিকার হতে হয়েছে!
‘পুশ-ইন’ হওয়া সাধারণ মানুষগুলো বিএসএফের চাপে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে ঠিকি, কিন্তু বিজিবি সদস্যদের কড়া বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশ করতে না পেরে ‘জিরো লাইনে’ আটকে যাচ্ছে।
অসহায়ত্বের দিন পার করছে ‘জিরো লাইনে’ আটকে থাকা কত বাবা, মা, শিশু সন্তান, ভাই, বোন সহ বয়োজ্যেষ্ঠরা। তপ্ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, অনাহারে দিন যাপন করছে। এমনকি খাবার পানিটাও পাচ্ছে না ঠিক মত। সাম্প্রতিক এমন বেশকিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও নেটিজেনদের ক্ষোভের ঝড় চলছে।
তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কাউকে বাংলাদেশি দাবি করে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রথমে তার পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করতে হবে। কারণ ভুলভাবে কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হলে নিরপরাধ মানুষও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ রাতের আঁধারে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে, এবং বাংলাদেশের বিজিবি সদস্য সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালনে নিরলস পরিশ্রম করছেন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ হওয়া মানুষদের প্রতিহত করে ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমন বেশকিছু ঘটনার খবর ইতিমধ্যে গণমাধ্যমেও প্রকাশ হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত পাহারায় বিজিবি সদস্যদের সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী স্থানীয় সাধারণ মানুষ রাতদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করছে।
আবার দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান পুশ-ইন/অনুপ্রবেশের কারণে আবেগপ্রবণ হয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতোও ঘটনা ঘটছে। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘাটলে দুই দেশের জনগণের জন্যই ক্ষতি ও সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে সেই সাথে কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা যদি প্রতিনিয়ত পুশ-ইনের মত ঘটনা ঘটায় তবে এটা শুধু সীমান্ত সুরক্ষার বিষয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না এটা বাংলাদেশের জন্যেও হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে আগামীতে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের পতাকা বৈঠক, কূটনৈতিক আলোচনা, ও জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ।
সীমান্তে পুশ-ইন/অনুপ্রবেশের শিকার হওয়া মানুষগুলো যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি নাগরিক হন এবং অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে অবস্থান করেন, তাহলে দুই দেশের আইনি নিয়ম অনুযায়ী নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যেতে পারে।
পুশ-ইন ইস্যু বর্তমানে শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি মানবাধিকার, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। এ ক্ষেত্রে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনায় পুশ-ইন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে এবং অতীতেও সীমান্তের বিভিন্ন জটিল সমস্যা দুই বাহিনীর বৈঠকে সমাধান হয়েছে।