কাহালুর কৃতি সন্তান আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম: মৎস্য খাতে সাফল্য, শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদান
প্রতিবেদন: এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া
বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার ৪নং নারহট্ট ইউনিয়নের বিবিরপুকুর বাজার এলাকার সুপরিচিত ব্যবসায়ী, সফল মৎস্য উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও শিক্ষা অনুরাগী আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম আজ কাহালুসহ সমগ্র বগুড়া জেলার গর্ব। কর্মনিষ্ঠা, সততা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণে নিরলস কাজের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মৎস্য খাতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্বর্ণপদক ও রৌপ্যপদকে ভূষিত হয়েছেন, যা তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সাফল্যের উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম মেসার্স শাহ সুলতান শাহ জামাল মৎস্য বীজাগার-এর স্বত্বাধিকারী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছের পোনা উৎপাদন ও মৎস্যচাষের উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত উন্নতমানের মাছের পোনা শুধু কাহালু বা বগুড়ায় নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ফলে একদিকে যেমন মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
মৎস্য খাতকে লাভজনক ও আধুনিক শিল্পে পরিণত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং মানসম্মত পোনা সরবরাহের মাধ্যমে তিনি দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁর এই অবদানের জন্যই তিনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
বর্তমানে তিনি কাহালু উপজেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে সমিতির কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। হ্যাচারি মালিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনের মান উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
এর পাশাপাশি তিনি কাহালু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজে সততা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি নিয়মিত সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। তিনি লোহাজাল দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শিক্ষিত জাতিই পারে একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে। তাই তিনি শিক্ষা বিস্তারে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম একজন সফল ব্যবসায়ী হলেও মানবসেবাকেই জীবনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব মনে করেন। অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তিনি নীরবে সহযোগিতা করে থাকেন। অনেক সময় প্রচারের আড়ালে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর নীতি।
স্থানীয়দের মতে, তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও কর্মঠ একজন মানুষ। তাঁর সততা, আন্তরিকতা এবং নেতৃত্বগুণের কারণে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সমানভাবে শ্রদ্ধেয়। কাহালু উপজেলার উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, মৎস্য খাতের প্রসার এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
বিবিরপুকুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ জানান, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম শুধু একজন সফল উদ্যোক্তা নন, তিনি একজন দূরদর্শী সংগঠকও। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি তিনি সবসময় অন্যদের সফল হওয়ার পথ দেখান। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর অবদান সত্যিই অনুকরণীয়।
তাঁর জীবনের মূল দর্শন হলো—পরিশ্রম, সততা এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। এই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি এগিয়ে চলেছেন এবং আগামী দিনেও দেশের মৎস্য খাত, শিক্ষা ও সমাজসেবায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন কাহালুবাসী।
কাহালুর এই কৃতি সন্তানের সাফল্য আজ শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমগ্র কাহালু উপজেলা এবং বগুড়া জেলার গর্ব। তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে—এমনটাই বিশ্বাস করেন এলাকাবাসী।