শেখ মোহাম্মদ পারভেজ
পাবনায় প্রেমের ফাঁদে (হানিট্র্যাপ) ফেলে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি ও ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাবনা শহরের পূর্ব কায়েমকোলা এলাকার পলি খাতুন, তাঁর স্বামী জামাল হোসেন (৪৩) এবং মহাদেবপুর এলাকার উকিল সর্দার (৪৩)।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী মো. কারিবুর বুধবার সকাল ১০টার দিকে নিজের মোবাইল ফোন মেরামতের জন্য বাড়ি থেকে পাবনা শহরে যান। দুপুর ১টার দিকে তিনি ছেলের মোবাইল ফোনে কল করে জানান, তাঁকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। মুক্তির জন্য অপহরণকারীরা ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। টাকা না দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
বাবার অপহরণের খবর পেয়ে ছেলে মো. কামরুল মন্ডল (২৬) বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি পাবনা সদর থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাবনা থানাধীন শ্রীপুর বাজার এলাকা থেকে কারিবুরকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর চার হাজার টাকা ও অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি জব্দ করা হয়।
পরে ডিবি পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পলি খাতুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পলি খাতুনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ দিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলে কারিবুরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার তাঁকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করার জন্য ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা সহযোগীরা তাঁকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরায়। একপর্যায়ে শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাবনা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
https://addlinks.pro/KW4JO