ঢাকা–পাবনা ট্রেনের নাম ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ করার দাবি
রিপোর্টার: শেখ মোহাম্মদ পারভেজ (পাবনা)
পাবনার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মানুষের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
ঢাকা–পাবনা সরাসরি এক্সপ্রেস ট্রেনের নাম ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ করার দাবি জানিয়েছে শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির ফসল এই ট্রেনের নাম এমন হওয়া উচিত, যা পাবনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগকে ধারণ করে।
শনিবার (২২ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি খান হাবিব মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঢাকা–পাবনা সরাসরি এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানায় সংগঠনটি। ট্রেনটি চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে পাবনার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের যাতায়াত-দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে ট্রেনটির নাম ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ করার খবর ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফাউন্ডেশন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তারা এখনো পায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ফাউন্ডেশনের নেতারা বলেন, কোনো জেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকারী আন্তঃনগর ট্রেনের নাম শুধু পরিচয়ের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ওই জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে। তাই পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনটির নামকরণ করা উচিত।
তাদের মতে, ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ নামটি সহজ, নিরপেক্ষ ও প্রতিনিধিত্বশীল। একই সঙ্গে পাবনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি কিংবা জেলার কৃতী ব্যক্তিত্বের নামেও ট্রেনটির নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সপ্তপদী’ নামটি কোনো বিশেষ ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচিত হয়ে থাকলেও পাবনার সঙ্গে এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ নামকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশন মনে করে, ট্রেনটির নাম কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত নয়। নাম নির্ধারণে পাবনাবাসীর মতামত ও অনুভূতির যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
প্রশাসনিক পর্যায়ে ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ নাম অনুমোদিত হয়ে থাকলেও পাবনাবাসীর আবেগ ও আপত্তি বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দ্রুত ট্রেনটির নাম ঘোষণা করতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।