শেখ মোহাম্মদ পারভেজ,
নওগাঁর আত্রাইয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে করা মামলায় জামিন না পেয়ে কারাগারে গেছেন দৈনিক ইনকিলাবের আত্রাই উপজেলা প্রতিনিধি শিফাত মাহমুদ ফাহিম। এ ঘটনায় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সাংবাদিক ফাহিম। শুনানি শেষে বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী আত্রাই উপজেলার ২ নম্বর ভোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। গত ৩ জুন তিনি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাংবাদিক ফাহিমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের সঙ্গে মামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব এবং পরিষদের সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক ফাহিমের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তী সময়ে এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন ফাহিম। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গত ১ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকটি জানালা দুটি ভ্যানে করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভ্যান দুটি আটকে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে চেয়ারম্যানকে পরিষদ প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই ঘটনার ভিডিও সাংবাদিক ফাহিমসহ অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা সরাসরি সম্প্রচার করেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক ফাহিমের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করায় তাঁকে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁর পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ বলছেন, মামলার অভিযোগের যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, মামলায় ফাহিমের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে মামলার অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে সব তথ্য ও বক্তব্য এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের মতে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। এতে মামলার প্রকৃত ঘটনা সামনে আসার পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।